সূরা হূদ (আয়াত: 98)
হরকত ছাড়া:
يقدم قومه يوم القيامة فأوردهم النار وبئس الورد المورود ﴿٩٨﴾
হরকত সহ:
یَقْدُمُ قَوْمَهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ فَاَوْرَدَهُمُ النَّارَ ؕ وَ بِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُوْدُ ﴿۹۸﴾
উচ্চারণ: ইয়াকদুমুকাওমাহূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফাআওরাদা হুমুন্না-রু ওয়া বি‘ছাল বিরদুল মাওরূদ।
আল বায়ান: কিয়ামত দিবসে সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনে উপনীত করে দেবে। যেখানে তারা উপনীত হবে সেটা উপনীত হওয়ার কতইনা নিকৃষ্ট স্থান!
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৮. সে কিয়ামতের দিনে তার সম্প্রদায়ের সামনে থাকবে।(১) অতঃপর সে তাদেরকে আগুনে উপনীত করবে। আর যেখানে তারা উপনীত হবে তা উপনীত হওয়ার কত নিকৃষ্ট স্থান!
তাইসীরুল ক্বুরআন: ক্বিয়ামাতের দিন সে তার সম্প্রদায়ের পুরোভাগে থাকবে আর তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে নেতৃত্ব দেবে, কতই না নিকৃষ্ট এ অবতরণ স্থল যাতে তারা উপনীত হবে।
আহসানুল বায়ান: (৯৮) কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করবে দোযখে।[1] আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান যাতে তারা উপনীত হবে।[2]
মুজিবুর রহমান: কিয়ামাত দিবসে সে নিজ সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করবেন জাহান্নামে, আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান, যাতে তারা উপনীত হবে।
ফযলুর রহমান: কেয়ামতের দিন সে তার লোকদের আগে আগে থাকবে এবং সে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর যে জায়গায় তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে তা বড়ই খারাপ!
মুহিউদ্দিন খান: কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।।
জহুরুল হক: সে কিয়ামতের দিন তার লোকদের চালিত করবে আর তাদের নামিয়ে দেবে আগুনে। আর নিকৃষ্ট সেই খাদ সেখানে তাদের নামান হবে!
Sahih International: He will precede his people on the Day of Resurrection and lead them into the Fire; and wretched is the place to which they are led.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৮. সে কিয়ামতের দিনে তার সম্প্রদায়ের সামনে থাকবে।(১) অতঃপর সে তাদেরকে আগুনে উপনীত করবে। আর যেখানে তারা উপনীত হবে তা উপনীত হওয়ার কত নিকৃষ্ট স্থান!
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ সে তাদের সামনে সামনে জাহান্নামে যাবে। কারণ সে তাদের নেতা। [কুরতুবী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৮) কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করবে দোযখে।[1] আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান যাতে তারা উপনীত হবে।[2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ ফিরআউন, যেমন দুনিয়াতে তাদের পথপ্রদর্শনকারী ও অগ্রবর্তী ছিল, কিয়ামতের দিনও সে তাদের অগ্রবর্তীই থাকবে এবং নিজ জাতিকে নিজের নেতৃত্যে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
[2] وِرْدٌ পানির ঘাটকে বলা হয়, যেখানে পিপাসিতরা আপন পিপাসা নিবৃত্ত করে। কিন্তু এখানে জাহান্নামকে وِرْد বলা হয়েছে।مورود সেই স্থান বা ঘাট অর্থাৎ জাহান্নাম; যেখানে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হবে। অর্থাৎ স্থানও নিকৃষ্ট এবং যারা যাবে তারাও নিকৃষ্ট। আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯৬-৯৯ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
এখানে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (عليه السلام) ও ফির‘আউন সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। যা আমরা সূরা ইউনুসে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছি।
আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রমাণ দিয়ে মূসা (عليه السلام)-কে ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেন। وَمَلَاْئِه পরিষদবর্গ জাতির সম্মানিত ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকদেরকে বলা হয়। ফির‘আউনের সাথে তার দরবারের সম্মানিত লোকদের নাম এ জন্য নেয়া হয়েছে যে, জাতির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাই সর্ববিষয়ে দায়িত্বশীল হয়ে থাকে এবং জাতির মানুষ তাদের অনুসরণ করে থাকে। যদি তারা ঈমান আনত তাহলে জাতির সবাই মূসা (عليه السلام)-এর প্রতি ঈমান আনত। ফির‘আউনের সম্প্রদায়েরা যেহেতু দুনিয়াতে তার অনুসরণ করেছে আখিরাতেও তারা ফির‘আউনের অনুসারী হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَجَعَلْنٰھُمْ اَئِمَّةً یَّدْعُوْنَ اِلَی النَّارِﺆ وَیَوْمَ الْقِیٰمَةِ لَا یُنْصَرُوْنَﭸوَاَتْبَعْنٰھُمْ فِیْ ھٰذِھِ الدُّنْیَا لَعْنَةًﺆ وَیَوْمَ الْقِیٰمَةِ ھُمْ مِّنَ الْمَقْبُوْحِیْنَﭹﺟ)
“তাদেরকে আমি নেতা করেছিলাম; তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করত; কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। এ পৃথিবীতে আমি তাদের ওপর লাগিয়ে দিয়েছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন তারা হবে ঘৃণিত” (সূরা কাসাস ২৮:৪১-৪২)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَقَالُوْا رَبَّنَآ إِنَّآ أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَا۬ءَنَا فَأَضَلُّوْنَا السَّبِيْلَا ﮒ رَبَّنَآ اٰتِهِمْ ضِعْفَيْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَالْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِيْرًا)
“তারা আরো বলবে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো অনুসরণ করেছিলাম আমাদের নেতাদের এবং আমাদের প্রধানদের। অতএব তারাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং মহা অভিশাপ দিন।” (সূরা আহযাব ৩৩:৬৭-৬৮)
بِرَشِيْدٍ অর্থ সঠিক, যুক্তিসম্পন্ন ও বিবেকসম্পন্ন। অর্থাৎ মূসা (عليه السلام)-এর কথাই ছিল সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। আর ফির‘আউনের কথা যা সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত ছিল না তারা তার অনুসরণ করল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. দুনিয়াতে যে ভাল মানুষের অনুসারী হবে আখিরাতেও সে তারই অনুসারী হবে, আর যে খারাপ লোকের অনুসরণ করবে আখিরাতেও সে খারাপ লোকেরই অনুসরণ করবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯৬-৯৯ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি কিবতী কওমের বাদশাহ্ ফিরআউন এবং তার প্রধানবর্গের নিকট স্বীয় রাসূল হযরত মূসাকে (আঃ) নিদর্শনসমূহ ও সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেন। কিন্তু কিবতীরা ফিরআউনের আনুগত্য পরিত্যাগ করলো না। তারা তারই ভ্রান্ত নীতির পিছনে পড়ে রইলো। এই দুনিয়ায় যেমন তারা ফিরআউনের আনুগত্য পরিত্যাগ করলো না বরং তাকে নেতা মেনেই চললো, অনুরূপভাবে কিয়ামতের দিনও তারা তারই পিছনে থাকবে এবং সে তাদের সবাইকে নেতৃত্ব দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর তাকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “ফির'আউন সেই রাসূলের কথা অমান্য করলো, সুতরাং আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।” (৭৩:১৬) আল্লাহপাক আরো বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সে অবিশ্বাস করলো এবং কথা মানলো না। অনন্তর সে পৃথক হয়ে (মূসার (আঃ) বিরুদ্ধে) প্রচেষ্টা চালাতে লাগলো। অতঃপর সে (লোকদের) সমবেত করলো, তৎপর সে উচ্চৈঃ স্বরে আহ্বান করলো। অতঃপর বললো: আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক। অনন্তর আল্লাহ তাকে আখেরাতের ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় এতে সেই ব্যক্তির জন্যে বড় শিক্ষণীয় রয়েছে যে (আল্লাহকে) ভয় করে। (৭৯:২১-২৬)
আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ ‘কিয়ামতের দিন সে (ফিরআউন) নিজ সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে। অতঃপর তাদেরকে দুযখে উপণীত করে দেবে, আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান হবে যাতে তারা উপণীত হবে।
অনুরূপভাবে অসৎ লোকদের অনুসারীদেরকেও কিয়ামতের দিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করানো হবে। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যেই দ্বিগুণ শাস্তি, কিন্তু তোমরা জান না।” (৭:৩৮) এবার আল্লাহ তাআ’লা কাফিরদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছেন যে, জাহান্নামে তারা বলবেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতৃবৃন্দ এবং আমাদের মাতব্বরদের কথা মান্য করেছিলাম, সুতরাং তারা আমাদেরকে (সোজা) পথ হতে বিভ্রান্ত করেছিল। হে আমাদের রব! তাদেরকে আপনি দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন এবং তাদের প্রতি লা’নত বর্ষণ করুন গুরুতর ভাবে। (৩৩:৬৭-৬৮)
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ (কিয়ামতের দিন) ইমরুল কায়েস অজ্ঞতার যুগের কবিদের পতাকা বহন করবে এবং তাদেরকে নিয়ে সে জাহান্নামের দিকে যাবে।” (এই হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় ‘মসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) জাহান্নামের শাস্তির উপর এটা আরো অতিরিক্ত শাস্তি যে, জাহান্নামীরা ইহকালে এবং পরকালে উভয় স্থানেই চিরস্থায়ী লা’নতের শিকার হবে। এটা আলী ইবনু আবি তালহা হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ ভাবে যহ্হাক (রঃ) এবং কাতাদা’ (রঃ) বলেছেন যে, (আরবি) দ্বারা দুনিয়া এবং আখেরাতের লা'নতকেই বুঝানো হয়েছে। এটা আল্লাহ পাকের নিম্নের উক্তির মতইঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি তাদেরকে এমন নেতা বানিয়ে ছিলাম যারা (লোকদেরকে) দুযখের প্রতি আহ্বান করছিল এবং কিয়ামত দিবসে তাদের কেউ সহায় হবে না। আর পৃথিবীতেও আমি তাদের পশ্চাতে লা'নত লাগিয়ে দিয়েছি, আর কিয়ামত দিবসেও তারা দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত থাকবে।” (২৮:৪১)
আল্লাহ তাআ’লা আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদেরকে (প্রত্যহ) সকালে ও সন্ধায় অগ্নির সম্মুখে আনয়ন করা হয়, আর যেই দিন কিয়ামত কায়েম হবে (সেই দিন আদেশ করা হবে যে,) ফিরআউনী লোকদেরকে কঠোরতর আযাবে দাখিল কর।” (৪০:৪৬)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।