আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 57)

সূরা হূদ (আয়াত: 57)



হরকত ছাড়া:

فإن تولوا فقد أبلغتكم ما أرسلت به إليكم ويستخلف ربي قوما غيركم ولا تضرونه شيئا إن ربي على كل شيء حفيظ ﴿٥٧﴾




হরকত সহ:

فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقَدْ اَبْلَغْتُکُمْ مَّاۤ اُرْسِلْتُ بِهٖۤ اِلَیْکُمْ ؕ وَ یَسْتَخْلِفُ رَبِّیْ قَوْمًا غَیْرَکُمْ ۚ وَ لَا تَضُرُّوْنَهٗ شَیْئًا ؕ اِنَّ رَبِّیْ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ حَفِیْظٌ ﴿۵۷﴾




উচ্চারণ: ফাইন তাওয়াল্লাও ফাকাদ আবলাগতুকুম মাউরছিলতুবিহীইলাইকুম ওয়া ইয়াছতাখলিফু রাববী কাওমান গাইরাকুম ওয়ালা-তাদুররূনাহূশাইআন ইন্না রাববী ‘আলা-কুল্লি শাইইন হাফীজ।




আল বায়ান: ‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে যা নিয়ে আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি তা তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমার রব তোমাদেরকে ছাড়া অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার রব সব কিছুর হেফাযতকারী’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. অতঃপর তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমি যা সহ তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি, আমি তো তা তোমাদের কাছে পৌছে দিয়েছি; এবং আমার রব তোমাদের থেকে ভিন্ন কোন সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।(১) নিশ্চয় আমার রব সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এরপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও (তবে জেনে রেখ), আমাকে যা দিয়ে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে আমি তো তোমাদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছি, এখন আমার প্রতিপালক তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রতিপালক সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।




আহসানুল বায়ান: (৫৭) অতঃপর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে যাও, তাহলে আমাকে যে পয়গাম দিয়ে তোমাদের প্রতি পাঠানো হয়েছে, আমি তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।[1] আর আমার প্রতিপালক অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না;[2] নিশ্চয় আমার প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।’ [3]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর যদি তোমরা ফিরে যাও তাহলে আমাকে যে বার্তা দিয়ে তোমাদের প্রতি পাঠানো হয়েছে, আমি ওটা তোমাদের কাছে পৌঁছিয়েছি; আর আমার রাব্ব ভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের পরিবর্তে অন্য লোকদেরকে আবাদ করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবেনা। নিশ্চয়ই আমার রাব্ব প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।



ফযলুর রহমান: “ অতএব, তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে (আমার কোন ক্ষতি হবে না; কারণ) আমাকে যা নিয়ে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে আমি তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমার প্রভু অন্য একদল লোককে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রভু সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।”



মুহিউদ্দিন খান: তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।



জহুরুল হক: কিন্তু তোমরা যদি ফিরে যাও তবে আমি নিশ্চয় তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি যা দিয়ে আমাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। আর আমার প্রভু তোমাদের থেকে পৃথক কোনো সম্প্রদায়কে স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু সব-কিছুর উপরে তত্ত্বাবধায়ক।



Sahih International: But if they turn away, [say], "I have already conveyed that with which I was sent to you. My Lord will give succession to a people other than you, and you will not harm Him at all. Indeed my Lord is, over all things, Guardian."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৭. অতঃপর তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমি যা সহ তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি, আমি তো তা তোমাদের কাছে পৌছে দিয়েছি; এবং আমার রব তোমাদের থেকে ভিন্ন কোন সম্প্রদায়কে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।(১) নিশ্চয় আমার রব সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।


তাফসীর:

(১) “আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনছি না” তাদের একথার জবাবে এ উক্তি করা হয়েছে। হুদ আলাইহিস সালাম বললেন, তোমরা যদি এভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করতে থাক তবে জেনে রাখ যে পায়গাম পৌছাবার জন্য আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে আমি তা যথাযথভাবে তোমাদের নিকট পৌছিয়েছি। অতএব তোমাদের অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে যে, তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব ও গযব আপতিত হবে, তোমরা সমূলে নিপাত ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর আমার রব তোমাদের স্থলে অন্য জাতিকে এ পৃথিবীতে আবাদ করাবেন। তোমরা যা করছ তাতে তোমাদেরই সর্বনাশ করছ আল্লাহ তা'আলার কোন ক্ষতি করছ না। আমার পালনকর্তা সবকিছু লক্ষ্য রাখেন, রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তোমাদের সব ধ্যান-ধারণা ও কার্যকলাপের তিনি খবর রাখেন।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৭) অতঃপর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে যাও, তাহলে আমাকে যে পয়গাম দিয়ে তোমাদের প্রতি পাঠানো হয়েছে, আমি তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।[1] আর আমার প্রতিপালক অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না;[2] নিশ্চয় আমার প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।’ [3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এর পরে আমার দায়িত্ব শেষ এবং তোমাদের উপর সমস্ত প্রমাণ পূর্ণ হয়ে গেছে।

[2] অর্থাৎ, তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে তোমাদের জমি-সম্পদের মালিক অন্যদেরকে বানিয়ে দেবেন, তিনি এরূপ করার ক্ষমতা রাখেন এবং মোকাবেলায় তোমরা তাঁর কিছুই করতে পারবে না। বরং তিনি আপন ইচ্ছা ও হিকমত অনুযায়ী এরূপ করে থাকেন।

[3] অবশ্যই তিনি আমাকে তোমাদের প্রতারণা ও চক্রান্ত থেকে সুরক্ষিত রাখবেন এবং শয়তানী চাতুরী থেকে রক্ষা করবেন। তাছাড়া সকল ভাল ও মন্দ ব্যক্তিদেরকে তাদের ভাল ও মন্দ আমল অনুযায়ী প্রতিদান ও প্রতিফল দান করবেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫০-৬০ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা হূদ (عليه السلام) এবং তাঁর ‘আদ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।



আল্লাহ তা‘আলা “আদ” জাতির প্রতি নাবী হিসেবে প্রেরণ করলেন “হূদ” (عليه السلام) কে। তিনিও অন্যান্য নাবী-রাসূলগণের মত তাঁর জাতিকে প্রথমেই তাওহীদের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদের উপাসনা করা হয় সে সকল উপাস্যরা বাতিল। সুতরাং তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত বন্দেগী কর, তাহলে তিনি ইচ্ছানুযায়ী সব কিছু দান করবেন। এমনকি তিনি তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেবেন যা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না। তিনি তাদেরকে অন্যান্য নাবীদের মত আরো বললেন যে, আমি আমার দাওয়াতী কাজের জন্য তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না।



তারপরও তোমরা এই সহজ কথাটুকু কেন বুঝ না যে, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার পথে আহ্বান করছেন অথচ এর বিনিময় হিসেবে কিছুই চাচ্ছেন না। মূলত আমি তোমাদের কল্যাণকামী।



(لَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا)



নাবীদের দাওয়াতী কাজে কোন পারিশ্রমিক না নেয়ার কথা থেকে অনেকে বলে থাকেন যে, দাওয়াতী কাজ করে কোন পারিশ্রমিক না নেয়াই উত্তম। বরং এ কাজের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশা করবে যেমন নাবীরা করেছিলেন।



অতঃপর হূদ (عليه السلام) জাতিকে অতীতের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবাহ করতে বললেন।



তাহলে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে ফসল ফলবে, তোমাদের শক্তির সাথে আরো অনেক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ কথা বলার কারণ হল তারা অনেক শক্তিশালী ছিল। যেমন নূহ (عليه السلام) তাঁর জাতিকেও বলেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْﺤ اِنَّھ۫ کَانَ غَفَّارًاﭙﺫ یُّرْسِلِ السَّمَا۬ئَ عَلَیْکُمْ مِّدْرَارًاﭚﺫ وَّیُمْدِدْکُمْ بِاَمْوَالٍ وَّبَنِیْنَ وَیَجْعَلْ لَّکُمْ جَنّٰتٍ وَّیَجْعَلْ لَّکُمْ اَنْھٰرًاﭛﺚ)‏



“আমি বলেছি: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো অতিশয় ক্ষমাশীল; তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য বাগানসমূহ সৃষ্টি করবেন ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।” (সূরা নূহ ৭১:১০-১২)



সুতরাং তোমরা আমার কথার বিরুদ্ধাচরণ করে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং কুফরীর ওপর অটল থেকো না। এ কথা শুনে হূদ (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় দলীল-প্রমাণ পেশ করতে বলল এবং তাদের ধারণা ছিল যে, যেহেতু হূদ তাদের উপাস্যদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করছে সেহেতু সেই উপাস্যদের বদদু‘আ তাঁর ওপর পড়েছে এবং তাঁর মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে দলীল আনতে অক্ষম হবে। আর তারা বলল, কোন দলীল-প্রমাণ ব্যতীত আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করতে পারি না। তাদের এ কথা শুনে হূদ (عليه السلام) তাদেরকে বললেন, যদি ব্যাপার এমনই হয়, তাহলে আমি আল্লাহ তা‘আলাকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমি তোমাদের এই সমস্ত বাতিল মা‘বূদ থেকে মুক্ত।



বর্তমানেও এই ধরনের কিছু নামধারী মুসলিম রয়েছে যারা গাছ পূজা, মাযার পূজা, কবর পূজা করে। তাদেরকে এ থেকে বারণ করলে তারা বলে এটা উপাস্য ব্যক্তিদের সাথে বেয়াদবী। সুতরাং তারা এই সমস্ত বেআদবদের বিপদগ্রস্ত করেন। نعوذ بالله অথচ তাদের কোন কিছুই করার ক্ষমতা নেই।



তখন হূদ (عليه السلام) বললেন, যদি তোমরা আমার এ কথায় বিশ্বাসী না হও তবে তোমরা ও তোমাদের সকল মা‘বূদরা মিলে কিছু করে দেখাও। আর আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার ওপরই ভরসা করলাম। যিনি সমস্ত ক্ষমতার মালিক। এরপরও যদি তোমরা বিশ্বাস না করে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে মনে রেখ যে, আমার দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেয়া। আমি আমার কাজ সমাপ্ত করলাম, যদি তোমরা না মান তবে হয়ত আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের পরিবর্তে এখানে অন্য এক জাতিকে পাঠাবেন যারা তাঁর আনুগত্য করবে ও তাঁর উপাসনা করবে। ফলে তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। তখন হঠাৎ এক পর্যায়ে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসে পড়ল। সেখান থেকে আল্লাহ তা‘আলা হূদ (عليه السلام) এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে রক্ষা করলেন তাঁর রহমত দ্বারা আর বাকিদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কঠিন আযাব দিলেন এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যে শাস্তি দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে বলেন:



(وَفِيْ عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ ج -‏ مَا تَذَرُ مِنْ شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيْمِ)



“এবং (নিদর্শন রয়েছে) ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস। তা যা কিছুর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল তাকেই জরাজীর্ণ করে দিয়েছিল।” (সূরা যারিয়াত ৫১:৪১-৪২)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَاَمَّا عَادٌ فَاُھْلِکُوْا بِرِیْحٍ صَرْصَرٍ عَاتِیَةٍﭕﺫسَخَّرَھَا عَلَیْھِمْ سَبْعَ لَیَالٍ وَّثَمٰنِیَةَ اَیَّامٍﺫ حُسُوْمًاﺫ فَتَرَی الْقَوْمَ فِیْھَا صَرْعٰیﺫ کَاَنَّھُمْ اَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِیَةٍﭖﺆ)



“আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় দ্বারা। যা তিনি তাদের ওপর প্রবাহিত করেছিলেন বিরামহীনভাবে সাত রাত ও আট দিন, তুমি (উপস্থিত থাকলে) সেই সম্প্রদায়কে দেখতে খেজুর কাণ্ডের ন্যায় সেখানে ছিন্ন ভিন্নভাবে পড়ে আছে।” (সূরা হা-ক্বাহ ৬৯:৬-৭)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيْحًا صَرْصَرًا فِيْ يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ لا ‏ تَنْزِعُ النَّاسَ لا كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُّنْقَعِرٍ)



“আমি তাদের ওপর প্রেরণ করেছিলাম ক্রমাগত প্রবাহমান প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন বায়ু, দুর্ভোগের দিনে, মানুষকে তা উৎখাত করেছিল উৎপাটিত খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।” (সূরা ক্বামার ৫৪:১৯-২০)



(وَعَصَوْا رُسُلَه۫)



‘তাঁরা রাসূলদের অবাধ্য হল’ ‘আদ জাতির কাছে একজনই নাবী হূদ (عليه السلام)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তারা তাঁর রাসূলদের অবাধ্য হল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল একজন রাসূলকে অস্বীকার করা মানে সমস্ত রাসূলকে অস্বীকার করা। কারণ সমস্ত রাসূলের প্রতি ঈমান রাখা আবশ্যক। অথবা উদ্দেশ্য হল এ সম্প্রদায় তাদের কুফরী ও অস্বীকার করাতে এমন অতিরঞ্জন করে ফেলেছিল যে, হূদ (عليه السلام)-এর পরেও যদি আল্লাহ তা‘আলা তাদের মাঝে কোন নাবী প্রেরণ করেন তাহলে তারা সে সকল রাসূলকে অস্বীকার করবে। তাদের এরূপ কুফরী করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেও লা’নত করলেন এবং আখিরাতেও তাদের ওপর লা’নত থাকবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হূদ (عليه السلام)-এর জাতিরাও তাঁকে অমান্য করলে শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়।

২. ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তা‘আলার সৎ বান্দা হতে পারলে দুনিয়ায় শান্তি বিরাজ করবে।

৩. হূদ (عليه السلام)-এর জাতিকে প্রচণ্ড ঝড়-ঝাঞ্ঝা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

৪. বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে সত্য প্রত্যাখ্যান করার পরিণাম ভাল নয়।

৫. পূর্ববর্তী এসব জাতির বিবরণ তুলে ধরার অন্যতম কারণ হল তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।

হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।