আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 23)

সূরা হূদ (আয়াত: 23)



হরকত ছাড়া:

إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات وأخبتوا إلى ربهم أولئك أصحاب الجنة هم فيها خالدون ﴿٢٣﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اَخْبَتُوْۤا اِلٰی رَبِّهِمْ ۙ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۲۳﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া আখবাতুইলা-রাব্বিহিম উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৩. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, এবং তাদের রবের প্রতি বিনয়াবনত হয়েছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: নিশ্চয় যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে আর তাদের রবেবর কাছে বিনীত, তারাই জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।




আহসানুল বায়ান: (২৩) নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে।



মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের রবের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এরূপ লোকেরাই হচ্ছে জান্নাতবাসী, তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে।



ফযলুর রহমান: যারা ঈমানদার, সৎকর্মশীল ও নিজেদের প্রভুর প্রতি বিনয়ী, তারাই জান্নাতের অধিবাসী (হবে) এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, এবং বিনয়াবনত হয় তাদের প্রভুর কাছে, -- তারাই বেহেশতের বাসিন্দা, এতে তারা থাকবে চিরকাল।



Sahih International: Indeed, they who have believed and done righteous deeds and humbled themselves to their Lord - those are the companions of Paradise; they will abide eternally therein.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৩. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, এবং তাদের রবের প্রতি বিনয়াবনত হয়েছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৩) নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-২৪ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



(اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ....)



পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা কাফির-মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে তিনি সৎ ও ভাগ্যবান লোকদের অবস্থা বর্ণনা করছেন যে, তারা হচ্ছে ঐ সমস্ত লোক যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কর্ম করেছে। সুতরাং তাদের অন্তরগুলোও মু’মিন হয়েছে এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোও। কথা ও কাজের দিক দিয়ে আনুগত্য বজায় রাখা ও নিকৃষ্ট কাজগুলোকে পরিহার করার মাধ্যমে সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করেছে। এই সমস্ত কাজের বিনিময়ে এরাই ঐ জান্নাতের অধিকারী যার নিচ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত। সেখানে তারা থাকবে চির সুখের মধ্যে, কোন দিন তারা দুঃখ কষ্ট ভোগ করবে না।



(مَثَلُ الْفَرِیْقَیْنِ....)



পূর্বের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ভাল ও মন্দের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে তাদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন। বলা হচ্ছে একজন দৃষ্টিহীন ও বধির আর অন্যজন চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন। কাফির ব্যক্তি ইহকালে সত্যের সৌন্দর্য দর্শন করা থেকে বঞ্চিত এবং আখিরাতে পরিত্রাণের পথ লাভে বঞ্চিত। অনুরূপ সে সত্যের দলীল শোনা থেকে বঞ্চিত থাকে, ফলে এমন কথাবার্তা থেকে বঞ্চিত থেকে যায় যা তার জন্য কল্যাণকর হত। এর বিপরীতে একজন মু’মিন যে বুঝার ক্ষমতা রাখে, সত্য দর্শন করে ও গ্রহণ করে এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়। সুতরাং সে সত্য ও ভালোর অনুসরণ করে। দলীল-প্রমাণ শ্রবণ ও দর্শন করে তার দ্বারা মনের সন্দেহ দূর করে এবং বাতিল থেকে দূরে থাকে। এরা উভয়ে কি সমান হতে পারে। কক্ষনো নয়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا يَسْتَوِيْٓ أَصْحٰبُ النَّارِ وَأَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ط أَصْحٰبُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَا۬ئِزُوْنَ)



“জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম।” (সূরা হাশর ৫৯:২০)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফির ও মু’মিন ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য জানতে পারলাম যে, তারা মর্যাদায় সমান হতে পারে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-২৪ নং আয়াতের তাফসীর

দুষ্ট ও হতভাগ্যদের অবস্থা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা'আলা এখানে সৎ ভাগ্যবানদের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা হচ্ছে ঐ সব লোক যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে। সুতরাং তাদের অন্তরগুলিও মু'মিন হয়েছে এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলিও কথা ও কাজের দিক দিয়ে আনুগত্য বজায় রাখা ও নিকৃষ্ট কাজগুলিকে পরিহার করার মাধ্যমে সৎ কার্যাবলী সম্পাদন করেছে। এরই মাধ্যমে তারা এমন বেহেশতের উত্তরাধিকারী হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে উঁচু উঁচু প্রকোষ্ঠ, সারি সারি সাজানো আসনসমূহ, ঝুঁকে পড়া ফলসমূহ, সুসজ্জিত গালিচাসমূহ, উত্তম স্বভাব সম্পন্ন রূপসীগণ, বিভিন্ন প্রকারের সুস্বাদু ফল, মনের চাহিদা মতো আহাৰ্যবস্তু, সুপেয় পানীয় এবং সর্বোপরি যমীন ও আসমানের সৃষ্টিকর্তার দর্শন। এসব নিয়ামতরাশি তারা চিরদিনের জন্যে ভোগ করবে। সেখানে তাদের মৃত্যু হবে না, বার্ধক্য আসবেনা, রোগ হবে না, পায়খানা-প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে না, মুখে থুথু উঠবে না এবং নাকে শ্লেষ্মও দেখা দেবে না। তাদের দেহ হতে যে ঘাম বের হবে তা হবে মেশকে আম্বারের মত সুগন্ধময়।

পূর্বে বর্ণিত হতভাগ্য কাফির এবং এখানে বর্ণিত খোদাভীরু মু’মিনের দৃষ্টান্ত ঠিক এমন দু’ব্যক্তির মত, যাদের একজন অন্ধ ও বধির এবং অপরজন দেখতে পায় এবং শুনতেও পায়। সুতরাং কাফির দুনিয়ায় সত্যকে দেখা হতে অন্ধ এবং আখেরাতেও সে কল্যাণের পথ দেখতে পাবেনা। দুনিয়ায় সে সত্যের দলিল প্রমাণাদি শ্রবণ করা থেকে বধির, উপকার দানকারী কথা তারা শুনেই না। তাদের মধ্যে কল্যাণের কিছু জানলে অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে শুনিয়ে দিতেন। পক্ষান্তরে মু’মিন হয় তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন, জ্ঞানী, আলিম ও বুদ্ধিমান। সে ভাল মন্দ বুঝে এবং এ দু’য়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। সুতরাং সে ভাল ও সত্যকে গ্রহণ করে এবং মন্দ ও বাতিল পরিত্যাগ করে। সে দলিল প্রমাণাদি শ্রবণ করে এবং এর মধ্যে ও সন্দেহের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। সুতরাং সে বাতিল থেকে বেঁচে থাকে এবং সত্যকে মান্য করে। কাজেই ঐ ব্যক্তি ও এই ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? বড়ই আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, এর পরেও তোমরা বিপরীতধর্মী। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “দুযখের অধিবাসী ও বেহেশতের অধিবাসীরা পরস্পর সমান নয়, যারা বেহেশতের অধিবাসী তারাই সফলকাম।” (৫৯: ২০)

আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “অন্ধ ও চক্ষুষ্মন সমান নয়। অন্ধকার ও আলোকও (সমান) নয়। আর ছায়া ও সূর্য কিরণও (সমান) নয়। (অর্থাৎ কাফির ও মু’মিন সমান নয়)। জীবিত এবং মৃত ব্যক্তি সমান হতে পারে না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনিয়ে থাকেন, আর যেহেতু কাফিররা মৃত বলে সাব্যস্ত হলো, কাজেই হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি কবরে সমাহিত লোকদেরকে শুনাতে সক্ষম নও। (এরা যদি না মানে, তবে তুমি চিন্তিত হবে না) তুমি তো শুধু ভয় প্রদর্শনকারী। আমিই তোমাকে সত্য (ধর্ম) সহ সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শকরূপে প্রেরণ করেছি; আর কোন সম্প্রদায় এমন ছিল না যে, তাদের মধ্যে কোন ভয় প্রদর্শনকারী (নবী) অতীত হয় নাই।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।