সূরা হূদ (আয়াত: 111)
হরকত ছাড়া:
وإن كلا لما ليوفينهم ربك أعمالهم إنه بما يعملون خبير ﴿١١١﴾
হরকত সহ:
وَ اِنَّ کُلًّا لَّمَّا لَیُوَفِّیَنَّهُمْ رَبُّکَ اَعْمَالَهُمْ ؕ اِنَّهٗ بِمَا یَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ ﴿۱۱۱﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন্না কুল্লাল লাম্মা-লাইউওয়াফফিয়ান্নাহুম রাব্বুকা আ‘মা-লাহুম ইন্নাহূবিমাইয়া‘মালূনা খাবীর।
আল বায়ান: আর নিশ্চয় তোমার রব সবাইকে তাদের আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। তারা যা আমল করে, অবশ্যই তিনি সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১১. আর নিশ্চয় আপনার রব তাদের প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরোপুরি দেবেন। তারা যা করে তিনি তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত;
তাইসীরুল ক্বুরআন: এতে সন্দেহ নেই যে, তোমার প্রতিপালক প্রত্যেককেই তাদের ‘আমালের প্রতিফল অবশ্য অবশ্যই পুরোপুরি দান করবেন, তারা যা করে সে বিষয়ে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
আহসানুল বায়ান: (১১১) আর নিশ্চিতরূপে তাদের প্রত্যেকের (সময় যখন এসে যাবে, তখন) অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদেরকে তাদের কর্মফল পূর্ণরূপে প্রদান করবেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের কার্যকলাপের পূর্ণ খবর রাখেন।
মুজিবুর রহমান: আর নিশ্চিত এই যে, তোমার রাব্ব তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ অংশ প্রদান করবেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের কার্যকলাপের পূর্ণ খবর রাখেন।
ফযলুর রহমান: তাদের প্রত্যেককে তোমার প্রভু অবশ্যই যার যার কর্মের পুরোপুরি প্রতিদান দেবেন। তারা যা করে নিশ্চয়ই তিনি তার খবর রাখেন।
মুহিউদ্দিন খান: আর যত লোকই হোক না কেন, যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।
জহুরুল হক: আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু যথাসময়ে তাদের প্রত্যেকের কর্মফল তাদের কাছে অবশ্যই পুরোপুরি মিটিয়ে দেবেন। তারা যা করে সে-বিষয়ে তিনি নিশ্চয়ই সবিশেষ অবহিত।
Sahih International: And indeed, each [of the believers and disbelievers] - your Lord will fully compensate them for their deeds. Indeed, He is Acquainted with what they do.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১১. আর নিশ্চয় আপনার রব তাদের প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরোপুরি দেবেন। তারা যা করে তিনি তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১১) আর নিশ্চিতরূপে তাদের প্রত্যেকের (সময় যখন এসে যাবে, তখন) অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদেরকে তাদের কর্মফল পূর্ণরূপে প্রদান করবেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের কার্যকলাপের পূর্ণ খবর রাখেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১০-১১১ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, হে রাসূল! আমি মূসার প্রতি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছিলাম তাতেও ইখতিলাফ করা হয়েছে। একদল তা মেনে নিয়েছে আর অন্যদল তা প্রত্যাখান করেছে। তোমার অবস্থাও তোমার পূর্ববর্তী নাবীদের মতই হবে। কেউ মানবে আবার কেউ মানবে না। সুতরাং তুমি এতে মন খারাপ কর না। যদি তাদের ব্যাপারে পূর্ব থেকে সিদ্ধান্ত না থাকত তাহলে এতদিনে তাদের ওপর শাস্তি এসে পড়ত এবং তারা ধ্বংস হয়ে যেত। তাদেরকে তাদের মেয়াদকাল পূর্ণ হলেই শাস্তি দেয়া হবে এবং তাতে তাদের কৃতকর্মের ফলাফল বিন্দু পরিমাণও কম দেয়া হবে না। তিনি তাদের সম্পূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত চাই তা ছোট হোক বা বড় হোক, গুরুত্বপূর্ণ হোক বা নগণ্যই হোক।
এ আয়াতের অর্থ সাধারণত এদিকেই নির্দেশ করে যে:
(وَإِنْ كُلٌّ لَّمَّا جَمِيْعٌ لَّدَيْنَا مُحْضَرُوْنَ)
“আর তাদের সবাইকে অবশ্যই একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩২)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কাউকে কমও দেবেন না এবং কাউকে বেশিও দেবেন না। আর তখন সবাই আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখেই উপস্থিত থাকবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. নাবীদের সম্পর্কে ও তাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাব সম্পর্কে দোষারোপ করা এটা কাফিরদের একটি চিরাচরিত নিয়ম।
২. প্রত্যেক মানুষকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৯-১১১ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! মুশরিকরা যে শরীক স্থাপন করছে তা যে সম্পূর্ণ রূপে বাতিল ও ভিত্তিহীন এ ব্যাপারে তুমি মোটেই সন্দেহ করোনা। তাদের কাছে তাদের বাপ-দাদাদের প্রচলিত রীতি ছাড়া আর কোন দলীল নেই। তাদের সৎ কার্যের বিনিময় তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হবে। আখেরাতে তাদের কোনই অংশ নেই। সুতরাং সেখানে তাদের প্রাপ্য হবে কঠিন শাস্তি। নিশ্চয় আমি তাদেরকে তাদের অংশ পূর্ণভাবে দিয়ে দেবো, একটুও কম না করে আল্লাহ পাকের এই উক্তি সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ তাদের সঙ্গে ভাল ও মন্দের যে ওয়াদা করা হয়েছে তা পুরোপুরিভাবে প্রদান করা হবে, একটুও কম করা হবে না। তাদের নির্ধারিত অংশ তারা অবশ্যই পাবে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি মূসাকে (আঃ) কিতাব দিয়েছিলাম। অনন্তর তাতে মতভেদ সৃষ্টি করা হয়। কেউ স্বীকার করে নেয় এবং কেউ অস্বীকার করে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তোমার অবস্থাও তোমার পুর্ববর্তী নবীদের মতই হবে। কেউ মানবে এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করবে। যেহেতু আমি সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছি এবং দলীল প্রমাণাদি পূর্ণ করার পূর্বে আমি শাস্তি প্রদান করি না, সেহেতু আমি এদেরকে শাস্তি প্রদানে বিলম্ব করছি। অন্যথায় এখনই এদেরকে আমি শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতাম। কাফিরদের কাছে আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা ভুলই মনে হয়। তাদের সন্দেহ-সংশয় দূর হয় না।
আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ নিশ্চিতরূপে সকলেই এইরূপ যে, তোমার প্রতিপালক তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ অংশ প্রদান করবেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের কার্যকলাপের পূর্ণ খবর রাখেন। অর্থাৎ তিনি তাদের সমুদয় আমল সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল, তা গুরুত্বপূর্ণই হোক বা নগণ্যই হোক এবং ছোটই হোক বা বড়ই হোক। এই আয়াতে বহু পঠন রয়েছে, যে গুলির অর্থ এই দিকেই ফিরে আসে যা আমরা উল্লেখ করেছি। যেমন আল্লাহ তাআ’লার নিম্নের উক্তিতে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “ (পর লোকে) তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে সমবেত ভাবে আমার সামনে হাযির করা হবে না।” (৩৬:৩২)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।