আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 109)

সূরা হূদ (আয়াত: 109)



হরকত ছাড়া:

فلا تك في مرية مما يعبد هؤلاء ما يعبدون إلا كما يعبد آباؤهم من قبل وإنا لموفوهم نصيبهم غير منقوص ﴿١٠٩﴾




হরকত সহ:

فَلَا تَکُ فِیْ مِرْیَۃٍ مِّمَّا یَعْبُدُ هٰۤؤُلَآءِ ؕ مَا یَعْبُدُوْنَ اِلَّا کَمَا یَعْبُدُ اٰبَآؤُهُمْ مِّنْ قَبْلُ ؕ وَ اِنَّا لَمُوَفُّوْهُمْ نَصِیْبَهُمْ غَیْرَ مَنْقُوْصٍ ﴿۱۰۹﴾




উচ্চারণ: ফালা-তাকুফী মিরইয়াতিম মিম্মা-ইয়া‘বুদুহাউলাই মা-ইয়া‘বুদূ না ইল্লা-কামাইয়া‘বুদুআ-বাউহুম মিন কাবলু ওয়া ইন্না-লামুওয়াফফূহুম নাসীবাহুম গাইরা মানকূস।




আল বায়ান: সুতরাং এরা যাদের উপাসনা করে, তুমি তাদের ব্যাপারে সংশয়ে থেকো না। তারা তো ইবাদাত করে, যেমন ইতঃপূর্বে ইবাদাত করত তাদের পিতৃপুরুষগণ। নিশ্চয় আমি তাদের অংশ হ্রাস না করে তাদেরকে পুরোপুরি দেব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৯. কাজেই তারা যাদের ইবাদাত করে তাদের সম্বন্ধে সংশয়ে থাকবেন না, আগে তাদের পিতৃপুরুষেরা যেভাবে ইবাদাত করত তারাও তাদেরই মত ইবাদাত করে।(১) আর নিশ্চয় আমরা তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরোপুরি দেব—কিছুমাত্র কম করব না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই তারা যেগুলোর ‘ইবাদাত করে সেগুলোর ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হয়ো না। তারা যেগুলোর ‘ইবাদাত করে সেগুলো তা ছাড়া আর কিছুই নয় যেগুলোর ‘ইবাদাত পূর্বে তাদের পিতৃপুরুষরা করত, আমি অবশ্যই তাদের প্রাপ্য অংশ তাদেরকে পূর্ণ মাত্রাতেই দেব, কোনই কমতি করা হবে না।




আহসানুল বায়ান: (১০৯) সুতরাং এরা যার উপাসনা করে, তার সম্বন্ধে তুমি এতটুকুও সংশয় করো না; তারাও ঠিক সে রূপেই উপাসনা করছে যেরূপে তাদের পূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা করত এবং নিশ্চয় আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পূর্ণভাবে দিয়ে দিব; একটুকুও কম করব না। [1]



মুজিবুর রহমান: সুতরাং এরা যার উপাসনা করে ওর সম্বন্ধে তুমি এতটুকুও সংশয় বোধ করনা; তারাও ঠিক সেই রূপেই ইবাদাত করছে যে রূপে তাদের পূর্ব-পুরুষরা ইবাদাত করত। এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে তাদের (শাস্তির) অংশ পূর্ণভাবে দিয়ে দিব, একটুও কম না করে।



ফযলুর রহমান: অতএব, ওরা যা কিছুর উপাসনা করছে সে সম্পর্কে তুমি কোন সন্দেহে থেকো না। পূর্বে ওদের বাপ-দাদারা যেমন (ভ্রান্ত দেবতাদের) উপাসনা করত ওরাও ঠিক তাই করছে। আমি ওদের প্রাপ্য (শাস্তি) কিছু কম না করে পুরোপুরি দেব।



মুহিউদ্দিন খান: অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ-দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো।



জহুরুল হক: কাজেই তুমি সন্দেহের মধ্যে থেকো না তারা যাদের উপাসনা করে তাদের সন্বন্ধে। তারা উপাসনা করে না যেভাবে তাদের পিতৃপুরুষরা ইতিপূর্বে উপাসনা করত সেভাবে ছাড়া। আর নিঃসন্দেহ তাদের পাওনা আমরা অবশ্যই তাদের পুরোপুরি মিটিয়ে দেবো কিছু মাত্র কমতি না ক’রে।



Sahih International: So do not be in doubt, [O Muhammad], as to what these [polytheists] are worshipping. They worship not except as their fathers worshipped before. And indeed, We will give them their share undiminished.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৯. কাজেই তারা যাদের ইবাদাত করে তাদের সম্বন্ধে সংশয়ে থাকবেন না, আগে তাদের পিতৃপুরুষেরা যেভাবে ইবাদাত করত তারাও তাদেরই মত ইবাদাত করে।(১) আর নিশ্চয় আমরা তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরোপুরি দেব—কিছুমাত্র কম করব না।


তাফসীর:

(১) এর অর্থ এ নয় যে, এ মাবুদদের ব্যাপারে সত্যিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মনে কোন প্রকার সন্দেহ ছিল। বরং আসলে একথাগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে সাধারণ মানুষকে শুনানো হচ্ছে। [কুরতুবী] এর অর্থ হচ্ছে, এরা যে এসব মাবুদের ইবাদত করছে এবং এদের কাছে প্রার্থনা করছে ও ভিক্ষা চাচ্ছে, নিশ্চয়ই এরা কিছু দেখে থাকবে যে কারণে এরা এদের থেকে উপকৃত হবার আকাংখা পোষণ করে-কোন বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির মনে এ ধরনের কোন সংশয় থাকা উচিত নয়। সত্যি কথা হচ্ছে এই যে, এদের যাবতীয় ইবাদত, নযরানা ও প্রার্থনা আসলে কোন অভিজ্ঞতা ও সত্যিকার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নয় বরং এসব কিছু করা হচ্ছে নিছক অন্ধ অনুসৃতির ভিত্তিতে। এসব বেদী ও আস্তানা পূর্ববর্তী জাতিদেরও ছিল। কিন্তু যখন আল্লাহর আযাব এলো তখন তারা ধ্বংস হয়ে গেলো এবং বেদী ও আস্তানাগুলো কোন কাজে লাগলো না।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৯) সুতরাং এরা যার উপাসনা করে, তার সম্বন্ধে তুমি এতটুকুও সংশয় করো না; তারাও ঠিক সে রূপেই উপাসনা করছে যেরূপে তাদের পূর্বে তাদের পূর্বপুরুষরা করত এবং নিশ্চয় আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পূর্ণভাবে দিয়ে দিব; একটুকুও কম করব না। [1]


তাফসীর:

[1] এর অর্থ সেই আযাব, তারা যার হকদার হবে, তাতে কোন কম করা হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৩-১০৯ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



পূর্বের আয়াতগুলোতে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতা ও তাদের ওপর আপতিত শাস্তির বর্ণনা তুলে ধরার পর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য শিক্ষা যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় করে, যেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে। لِأَجَلٍ مَّعْدُوْدٍ অর্থাৎ কিয়ামতকে বিলম্বে সংঘটিত করার কারণ হল আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একটি নির্ধারিত সময় রেখে দিয়েছেন। যখন সে সময় এসে যাবে তখন এক মুহূর্তের জন্য বিলম্ব করা হবে না।



لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ কথা বলবে না অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার সামনে কথা বলার কারো হিম্মত ও সাহস হবে না। তিনি যদি অনুমতি দেন তাহলে সুযোগ পাবে।



একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সে দিন নাবীগণ ছাড়া কারো কোন কথা বলার হিম্মত থাকবে না। আর নাবীগণের মুখে সেদিন একমাত্র এ কথা হবে হে আল্লাহ তা‘আলা! আমাকে পরিত্রাণ দাও, আমাকে পরিত্রাণ দাও। (সহীহ বুখারী হা: ৮০৬)



কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে দু‘টো দল থাকবে। একটি হল দুর্ভাগ্যবান এবং অপরটি সৌভাগ্যবান।



অতঃপর যারা দুর্ভাগ্যবান তথা কাফির তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে আর তারা তথায় আর্তনাদ ও চিৎকার করবে। তারা জাহান্নামে আকাশ-জমিন যতদিন থাকবে ততদিন অবস্থান করবে। এই বাক্য দ্বারা অনেকে এই অর্থ গ্রহণ করেন যে, কোন কাফির-মুশরিকও জাহান্নামে স্থায়ী হবে না। কিন্তু এই অর্থ গ্রহণ করা মোটেও ঠিক হবে না। এটি মূলত আরবদের পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আরবরা যখন কোন কিছুর চিরস্থায়ীত্ব বুঝাত তখন এইরূপ বলত যে,



هذا دائم دوام السموات والأرض



অর্থাৎ এই বস্তু আকাশ ও পৃথিবীর মত চিরস্থায়ী। এর দ্বারা মূলত তারা চিরস্থায়ী জিনিসকেই বুঝাত। সুতরাং কাফির-মুশরিকরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। এই অর্থই সঠিক। আর যারা সৌভাগ্যবান তারা জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর সেখানে তাদেরকে এমন জিনিস দান করা হবে যা কোন দিন শেষ হওয়ার নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(خٰلِدِيْنَ فِيْهَا لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا)



“সেথায় তারা স্থায়ী হবে, তা হতে স্থানান্ত‎র কামনা করবে না।” (সূরা কাহ্ফ ১৮:১০৮)



আর যারা পাপী তাদেরকে এমনভাবে শাস্তি দেয়া হবে যেমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল তাদের পূর্বপুরুষদেরকে। তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যেমন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে; এর চেয়ে একটুও কম করা হবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার সামনে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কোন কথা বলতে পারবে না।

২. যারা ভাল কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা খারাপ কাজ করবে তারা জাহান্নামে যাবে এবং তথায় চিরস্থায়ী হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৯-১১১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! মুশরিকরা যে শরীক স্থাপন করছে তা যে সম্পূর্ণ রূপে বাতিল ও ভিত্তিহীন এ ব্যাপারে তুমি মোটেই সন্দেহ করোনা। তাদের কাছে তাদের বাপ-দাদাদের প্রচলিত রীতি ছাড়া আর কোন দলীল নেই। তাদের সৎ কার্যের বিনিময় তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হবে। আখেরাতে তাদের কোনই অংশ নেই। সুতরাং সেখানে তাদের প্রাপ্য হবে কঠিন শাস্তি। নিশ্চয় আমি তাদেরকে তাদের অংশ পূর্ণভাবে দিয়ে দেবো, একটুও কম না করে আল্লাহ পাকের এই উক্তি সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ তাদের সঙ্গে ভাল ও মন্দের যে ওয়াদা করা হয়েছে তা পুরোপুরিভাবে প্রদান করা হবে, একটুও কম করা হবে না। তাদের নির্ধারিত অংশ তারা অবশ্যই পাবে।

মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি মূসাকে (আঃ) কিতাব দিয়েছিলাম। অনন্তর তাতে মতভেদ সৃষ্টি করা হয়। কেউ স্বীকার করে নেয় এবং কেউ অস্বীকার করে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তোমার অবস্থাও তোমার পুর্ববর্তী নবীদের মতই হবে। কেউ মানবে এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করবে। যেহেতু আমি সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছি এবং দলীল প্রমাণাদি পূর্ণ করার পূর্বে আমি শাস্তি প্রদান করি না, সেহেতু আমি এদেরকে শাস্তি প্রদানে বিলম্ব করছি। অন্যথায় এখনই এদেরকে আমি শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতাম। কাফিরদের কাছে আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা ভুলই মনে হয়। তাদের সন্দেহ-সংশয় দূর হয় না।

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ নিশ্চিতরূপে সকলেই এইরূপ যে, তোমার প্রতিপালক তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ অংশ প্রদান করবেন; নিশ্চয়ই তিনি তাদের কার্যকলাপের পূর্ণ খবর রাখেন। অর্থাৎ তিনি তাদের সমুদয় আমল সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল, তা গুরুত্বপূর্ণই হোক বা নগণ্যই হোক এবং ছোটই হোক বা বড়ই হোক। এই আয়াতে বহু পঠন রয়েছে, যে গুলির অর্থ এই দিকেই ফিরে আসে যা আমরা উল্লেখ করেছি। যেমন আল্লাহ তাআ’লার নিম্নের উক্তিতে রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “ (পর লোকে) তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে সমবেত ভাবে আমার সামনে হাযির করা হবে না।” (৩৬:৩২)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।