আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 79)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 79)



হরকত ছাড়া:

وقال فرعون ائتوني بكل ساحر عليم ﴿٧٩﴾




হরকত সহ:

وَ قَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِکُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লা ফির‘আওনু’তূনী বিকুল্লি ছা-হিরিন ‘আলীম।




আল বায়ান: এবং ফির‘আউন বলল, ‘তোমরা প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৯. আর ফিরআউন বলল, “তোমরা আমার কাছে সমস্ত সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আস।




তাইসীরুল ক্বুরআন: ফির‘আওন বলল, ‘‘সকল পারদর্শী যাদুকরদের আমার কাছে নিয়ে এসো’’।




আহসানুল বায়ান: (৭৯) ফিরআউন বলল, ‘আমার কাছে সমস্ত সুদক্ষ যাদুকরকে উপস্থিত কর।’



মুজিবুর রহমান: এবং ফির‘আউন বললঃ আমার কাছে সমস্ত সুদক্ষ যাদুকরদের উপস্থিত কর।



ফযলুর রহমান: ফেরাউন (তার লোকদেরকে) বলল, “তোমরা প্রতিটি বিজ্ঞ যাদুকরকে আমার কাছে নিয়ে এসো।”



মুহিউদ্দিন খান: আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে।



জহুরুল হক: আর ফিরআউন বললে -- "প্রত্যেক ওস্তাদ জাদুকরকে আমার কাছে নিয়ে এস।"



Sahih International: And Pharaoh said, "Bring to me every learned magician."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৯. আর ফিরআউন বলল, “তোমরা আমার কাছে সমস্ত সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আস।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৯) ফিরআউন বলল, ‘আমার কাছে সমস্ত সুদক্ষ যাদুকরকে উপস্থিত কর।’


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৪-৮১ নং আয়াতের তাফসীর:



(ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْۭ بَعْدِھ۪......)



আল্লাহ তা‘আলা নূহ (عليه السلام)-এর পরেও প্রমাণ-পঞ্জিসহ অসংখ্য নাবী-রাসূলদেরকে পাঠিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করত যে, এরা আসলেই আল্লাহ তা‘আলার নাবী। কিন্তু তারা তা বুঝার পরেও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি। কারণ তারা পূর্বেই যেহেতু রাসূলদেরকে কোন রকম চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই অস্বীকার করেছিল তাই তারা ভাবল যে, আমরা যেহেতু পূর্বেই অস্বীকার করেছি সেহেতু এখন আর ঈমান এনে লাভ হবে না। যার ফলে তারা ঈমান আনেনি। যেভাবে কুফরী ও মিথ্যাজ্ঞান করার কারণে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের হৃদয় মোহরাংকিত হয়েছিল, ঐভাবেই ভবিষ্যতেও যে জাতি রাসূলগণকে মিথ্যাজ্ঞান করবে এবং আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে, তাদের অন্তরও মোহরাংকিত হবে এবং পূর্ব জাতিসমূহের ন্যায় তারাও হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে ।



(ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْۭ بَعْدِھِمْ مُّوْسٰی وَھٰرُوْنَ...... ِنَّ اللہَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ)



পূর্বে নূহ (عليه السلام)-এর কথা ও অন্যান্য অনেক রাসূল প্রেরণ করার কথা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা‘আলা উক্ত আয়াতগুলোতে মূসা (عليه السلام) ও হারূন (عليه السلام) সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছেন। আর রাসূলদের কথা বলার পর বিশেষভাবে তাদের দু‘জনের কথা উল্লেখ করার কারণ হল যে, তারা উভয়েই বিশিষ্ট রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মাঝে ও তাদের শত্র“র মাঝে অনেক শিক্ষা রয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে স্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে প্রেরণ করেছেন ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট, কিন্তু তারা তাদের নিদর্শনকে মেনে নেয়নি। এ নিদর্শন সম্পর্কে সূরা ইসরার ১০১ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু তারা বড় বড় অপরাধমূলক কাজে অভ্যাসী ছিল, যার কারণে আল্লাহ তা‘আলার প্রেরিত রাসূলকেও অহঙ্কার প্রদর্শন করল। কারণ এক পাপ কাজ অন্য পাপকে আকর্ষণ করে এবং পাপের ওপর অটল থাকলে বড় বড় পাপকর্ম সাধনে সাহস যোগায়। সুতরাং যখন সত্য তাদের কাছে আগমন করল তখন তা অস্বীকার করার কোন বিবেকগ্রাহ্য প্রমাণ না থাকায় অব্যাহতি পাওয়ার জন্য বলে দেয় এটা জাদু। তাছাড়া মূসা (عليه السلام)-এর যুগে জাদুর প্রভাব বেশি ছিল, যেমন আমাদের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের সাহিত্য চর্চার প্রভাব বেশি ছিল। মূসা (عليه السلام) বললেন: তোমরা একটু চিন্তা করে দেখ, সত্যের দাওয়াত ও সঠিক কথাকে তোমরা জাদু বলছ! এটা কি জাদু হতে পারে? জাদুকর তো কখনো কৃতকার্যই হতে পারে না। অর্থাৎ ইচ্ছা অনুযায়ী চাহিদা পূরণ করতে এবং অনাকাক্সিক্ষত পরিণতি থেকে বাঁচতে পারে না। আমি তো আল্লাহ তা‘আলার রাসূল, আমি আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য পাই এবং আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আমাকে মু’জিযাহ দেয়া হয়েছে। জাদু ও জাদুবিদ্যার আমার প্রয়োজনই বা কি আছে? তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার প্রদর্শিত মু’জিযার তুলনায় তার মূল্যই বা কতটুকু।



তারা মূসা (عليه السلام)-এর সমস্ত মু‘জিযা দেখার পর বলল যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে যে দীনের ওপর পেয়েছি তা থেকে অন্য দীনের ওপর সরে যাব না এবং এই জমিনে তোমাদের রাজত্ব কায়েম করতে দেব না। ফলে তাদের বাপ-দাদার মতবাদে অটল বিশ্বাস ও ধন-সম্পদের লোভ তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রেখেছে। পরবর্তীতে ফির‘আউনের জাদুকরদের ডাকা এবং মূসার জাদুকরদের মোকাবেলা করার কাহিনী সূরা আ‘রাফে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. প্রত্যেক রাসূলই দুনিয়াতে প্রমাণ নিয়ে এসেছেন।

২. যুগে যুগে যারা ঈমান আনেনি তাদের সকলের পরিণতি একই রকম হবে।

৩. মূসা ও হারূন (عليه السلام) হলেন বিশিষ্ট নাবীদের অন্তর্ভুক্ত।

৪. নাবীদের মু‘জিযা কোন জাদু নয়।

৫. বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে সঠিক বিষয়ে আমল করা থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৯-৮২ নং আয়াতের তাফসীর:

মহান আল্লাহ যাদুকর ও মূসা (আঃ)-এর কাহিনী সূরায়ে আ’রাফে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে এর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। আর এই সূরায় এবং সূরায়ে তাহা ও সূরায়ে শুআরায়ও এটা বর্ণিত হয়েছে। ফিরআউন তার যাদুকরদের বাজে কথন এবং প্রতারণামূলক কলাকৌশলের মাধ্যমে মূসা (আঃ)-এর সুস্পষ্ট সত্যের মুকাবিলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সম্পূর্ণরূপে বিফল মনোরথ হয় এবং সাধারণ সমাবেশে আল্লাহ্ পাকের দলীল প্রমাণাদি ও মু'জিযাসমূহ জয়যুক্ত হয়। সমস্ত যাদুকর সিজদায় পড়ে যায় এবং বলে ওঠে “আমরা বিশ্ব প্রতিপালকের উপর ঈমান আনলাম। যিনি মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর প্রতিপালক।` ফিরআউনের তো বিশ্বাস ছিল যে, সে যাদুকরদের সাহায্যে আল্লাহর রাসূলের উপর বিজয় লাভ করবে। কিন্তু সে অকৃতকার্য হয় এবং তার জন্যে জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায় । ফিরআউন নির্দেশ দিয়েছিল যে, দেশের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে যেন যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হয়। ঐ যাদুকররা মূসা (আঃ)-কে বলেঃ “আপনি যে কাজ করতে চান করে ফেলেন। তাদের একথা বলার কারণ ছিল এই যে, ফিরআউন তাদের সাথে অঙ্গীকার করেছিলঃ “তোমরা যদি বিজয় লাভ করতে পার, তবে আমার নৈকট্য লাভ করবে এবং তোমাদেরকে বড় রকমের পুরস্কার দেয়া হবে।” যাদুকররা মূসা (আঃ)-কে বলেঃ “প্রথমে আপনি আপনার কর্মকৌশল দেখাবেন, না আমরাই প্রথমে দেখাবো?” উত্তরে মূসা (আঃ) বললেনঃ “তোমরাই প্রথমে তোমাদের কলাকৌশল প্রদর্শন কর।” এটা বলার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, যাতে যাদুকররা কি পেশ করছে তা জনগণ দেখতে পারে। তারপর যেন সত্যের আগমন ঘটে এবং মিথ্যাকে মিথ্যারূপেই প্রমাণ করে। যাদুকররা তাদের যাদুর দড়িগুলো নিক্ষেপ করলো এবং জনগণের চোখে যাদু লাগিয়ে দিলো। তাদের দড়িগুলো সাপ হয়ে গেল, ফলে জনগণ ভয় পেয়ে গেল। তারা মনে করলো যে, যাদুকররা বড় রকমের যাদু পেশ করেছে। মূসা (আঃ)-ও ভয় পেয়ে গেলেন। আল্লাহ পাক তখন মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ “হে মূসা (আঃ)! ভয় করো না। তুমিই জয়যুক্ত হবে। তোমার লাঠিখানা তুমি মাটিতে নিক্ষেপ কর। ওটি অজগর হয়ে গিয়ে তাদের সাপগুলোকে গিলে ফেলবে। যাদুকরদের এই কর্মকৌশল তো যাদু ছাড়া কিছুই নয়। যাদুকররা কোনক্রমেই সফলতা লাভ করতে পারে না। এ অবস্থায় মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ “এটা তো তোমাদের যাদুর খেলা। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তোমাদের এ কাজকে মিথ্যা প্রমাণিত করবেন।”

আল্লাহ পাক বলেন- “আল্লাহ্ ফাসাদকারীদের কাজ সম্পন্ন হতে দেন না। তিনি সত্যকে সত্যরূপেই প্রমাণ করবেন, যদিও পাপাচারীদের কাছে তা অপছন্দনীয় হয়।”

ইবনে আবি সুলাইম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নিম্নের আয়াতগুলো আল্লাহ তা'আলার হুকুমে যাদুক্রিয়া থেকে আরোগ্য দানের কাজ করে থাকে। এই আয়াত পড়ে পানিতে ফুঙ্কার দিতে হবে। অতঃপর সেই পানি যাদুকৃত ব্যক্তির মাথায় ঢেলে দিতে হবে। আয়াতগুলো হচ্ছে সূরায়ে ইউনুসের নিম্নের আয়াতঃ (আরবী) পর্যন্ত। অন্য আয়াত হচ্ছেঃ (আরবী) (৭:১১৮) হতে শেষ চার আয়াত পর্যন্ত। আর (আরবী) (২০:৬৯) এই আয়াতটি।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।