আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 53)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 53)



হরকত ছাড়া:

ويستنبئونك أحق هو قل إي وربي إنه لحق وما أنتم بمعجزين ﴿٥٣﴾




হরকত সহ:

وَ یَسْتَنْۢبِئُوْنَکَ اَحَقٌّ هُوَ ؕؔ قُلْ اِیْ وَ رَبِّیْۤ اِنَّهٗ لَحَقٌّ ۚؕؔ وَ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ ﴿۵۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াছতামবিঊনাকা আহাক্কুন হুওয়া কুল ঈ ওয়ারাববী ইন্নাহূলাহাক্কুওঁ ওয়া মাআনতুম বিমু‘জিযীন।




আল বায়ান: আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, ‘তা কি সত্য’? বল, ‘হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. আর সূরা আপনার কাছে জানতে চায়, এটা কি সত্য? বলুন, হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! এটা অবশ্যই সত্য(১) আর তোমরা মোটেই অপারগকারী নও।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা তোমার কাছে জানতে চায় (তুমি যা বলছ) সেগুলো কি প্রকৃতই সঠিক? বল-‘হাঁ, আমার রবের কসম! তা একবারেই সত্য। তোমরা তা বানচাল করতে পারবে না।




আহসানুল বায়ান: (৫৩) তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তা (শাস্তি) কি সত্য?’[1] তুমি বল, ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের কসম! তা অবশ্যই সত্য; আর তোমরা কিছুতেই ব্যর্থ করতে পারবে না।’



মুজিবুর রহমান: তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, ওটা (শাস্তি) কি যথার্থ বিষয়? তুমি বলে দাওঃ হ্যাঁ, আমার রবের কসম! ওটা নিশ্চিত সত্য; আর তোমরা কিছুতেই আল্লাহকে অপারগ করতে পারবেনা।



ফযলুর রহমান: তারা তোমার কাছে জানতে চায়, তা (শাস্তি) কি সত্য? বল, “হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ! অবশ্যই তা সত্য এবং তোমরা (তা দিতে আল্লাহকে) অপারগ করতে পারবে না।



মুহিউদ্দিন খান: আর তোমার কাছে সংবাদ জিজ্ঞেস করে, এটা কি সত্য ? বলে দাও, অবশ্যই আমার পরওয়ারদেগারের কসম এটা সত্য। আর তোমরা পরিশ্রান্ত করে দিতে পারবে না।



জহুরুল হক: আর তারা তোমার কাছে জানতে চায় -- "এ কি সত্য?" বলো -- "হাঁ, আমার প্রভুর কসম, এ আলবৎ সত্য। আর তোমাদের এড়াবার নহে!"



Sahih International: And they ask information of you, [O Muhammad], "Is it true?" Say, "Yes, by my Lord. Indeed, it is truth; and you will not cause failure [to Allah]."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৩. আর সূরা আপনার কাছে জানতে চায়, এটা কি সত্য? বলুন, হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! এটা অবশ্যই সত্য(১) আর তোমরা মোটেই অপারগকারী নও।


তাফসীর:

(১) এখানে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর নবীকে আল্লাহর সত্বার শপথ করে কেয়ামত যে আসন্ন তা বলতে নির্দেশ দিচ্ছেন। পবিত্র কুরআনের আরো দুটি স্থানে এ ধরণের নির্দেশ এসেছে, [যেমন সূরা সাবাঃ ৩, এবং আত-তাগাবুনঃ ৭] মূলতঃ কেয়ামতের ব্যাপারটি বিশেষ গুরুত্বের দাবী রাখার কারণেই আল্লাহ তাঁর নবীকে শপথ করে বলার নির্দেশ দিয়েছেন।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৩) তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তা (শাস্তি) কি সত্য?’[1] তুমি বল, ‘হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের কসম! তা অবশ্যই সত্য; আর তোমরা কিছুতেই ব্যর্থ করতে পারবে না।’


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ তারা জিজ্ঞাসা করে যে, কিয়ামত এবং পুনরুত্থান (মানুষ মৃত্যুবরণ করে পচে-গলে মাটি হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠা কি সত্য? আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী! তাদেরকে বলে দাও যে, তোমাদের মাটি হয়ে মাটির সাথে মিশে গেলেও, তা তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাকে ব্যর্থ ও অপারগ করতে পারবে না। অতএব পুনর্জীবন অবশ্যই ঘটবে। ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতের মত আয়াত কুরআনে শুধু আর দুটি আছে, যাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর পয়গম্বরকে আদেশ করেছেন যে, তিনি যেন শপথ করে কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা প্রচার করেন। প্রথমটি সূরা সাবা’র ৩নং আয়াত, আর দ্বিতীয়টি সূরা তাগাবুনের ৭নং আয়াত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৩-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর:



কাফির-মুশরিকরা জিজ্ঞাসা করে যে, মানুষ মৃত্যুবরণ করে পচে গলে যাবার পরও কি পুনরুত্থান হবে, এটা কি সত্য? আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নাবী! তাদেরকে বলে দাও, আমার রবের শপথ! তা সত্য। তোমরা মাটি হয়ে মাটির সাথে মিশে গেলেও তা তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলাকে অপারগ করতে পারবে না। বরং এটি আল্লাহ তা‘আলার জন্য একেবারেই সহজ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّمَآ أَمْرُه۫ ٓ إِذَآ أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَّقُوْلَ لَه۫ كُنْ فَيَكُوْنُ)



“বস্তুতঃ তাঁর সৃষ্টিকার্য এরূপ যে, যখন তিনি কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেনঃ “হও”, অমনি তা হয়ে যায়।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)



আল্লাহ তা‘আলা এরূপ শপথ করে পবিত্র কুরআনের আরো দু‘জায়গায় বলেছেন যে, অবশ্যই পুনরুত্থান করা হবে। যেমন



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَا تَأْتِيْنَا السَّاعَةُ ط قُلْ بَلٰي وَ رَبِّيْ لَتَأْتِيَنَّكُمْ)



“কাফিরেরা বলে: আমাদের মাঝে কিয়ামত আসবে না। তুমি বলে দাও, হ্যাঁ আসবেই? কসম আমার প্রতিপালকের! অবশ্যই তা তোমাদের মাঝে আসবে।” (সূরা সাবা ৩৪:৩)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(زَعَمَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ أَنْ لَّنْ يُّبْعَثُوْا ط قُلْ بَلٰي وَ رَبِّيْ لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ط وَذٰلِكَ عَلَي اللّٰهِ يَسِيْرٌ) ‏



“কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না। বল: নিশ্চয়ই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা করতে তোমাদেরকে সে সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।” (সূরা তাগাবুন ৬৪:৭)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং তাদেরকে পুনরুত্থান করা হবে ও তারা শাস্তি দেখবে তখন তারা দুনিয়ার সমস্ত কিছু দিয়ে হলেও শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে চাইবে। কিন্তু তারা সেখানে শাস্তি থেকে রক্ষা পাবার মতো কোন কিছুই পাবে না। যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন তাদের মাথা অপমানে নত হয়ে যাবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيْعًا وَّمِثْلَه۫ مَعَه۫ لِيَفْتَدُوْا بِه۪ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيٰمَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ ج وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ)‏



“নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে, যদি তাদের কাছে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরো থাকে আর এগুলোর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন শাস্তি থেকে রেহাই পেতে চায়, তবুও তাদের থেকে তা কবূল করা হবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা মায়েদা ৫:৩৬)



সুতরাং যেদিন কোন বিনিময় চলবে না, কেউ কারো উপকার করতে পারবে না সেদিন আসার আগেই আমাদেরকে সতর্ক হওয়া উচিত, আমরা সেদিনের জন্য কী প্রস্তুত করেছি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শপথ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নামেই করতে হবে। অন্য কারো নামে শপথ করা যাবে না।

২. কিয়ামত অবশ্য অবশ্যই সংঘটিত হবে।

৩. মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৩-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ “লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, দেহ মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান কি সত্য? তুমি তাদেরকে বলে দাও- হ্যা! আল্লাহর কসম! এটা সত্য। তোমাদের মাটি হয়ে যাওয়া এবং এরপর তোমাদেরকে পুনরায় পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা আমার প্রতিপালকের কাছে খুবই সহজ কাজ। তিনি যখন কোন কাজের ইচ্ছা। করেন, তখন শুধু ‘হও' বললেই তা হয়ে যায়।` এইরূপ কসমযুক্ত আয়াত কুরআন কারীমের মধ্যে আর মাত্র দুই জায়গায় রয়েছে। এতে আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে হুকুম করেছেন যে, পুনরুত্থান ও পুনর্জীবনকে যারা অস্বীকার করে, তাদের কাছে তিনি যেন কসম দিয়ে বর্ণনা করেন। সূরায়ে সাবায় রয়েছেঃ “কাফির লোকেরা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না; তুমি বলে দাও(কেন আসবে না?) হ্যা, আমার প্রতিপালকের কসম! অবশ্যই ওটা তোমাদের উপর আসবে।” সূরায়ে তাগাবুনে রয়েছেঃ “কাফিররা এই দাবী করে যে, তাদেরকে কখনো পুনরুজ্জীবিত করা হবে না; তুমি বলে দাও- (কেন করা হবে না?) হ্যাঁ, আমার প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে, অনন্তর, তোমরা যা কিছু করেছে, সমস্তই তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে; আর এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।” এরপর আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন কাফিররা কামনা করবে যে, যদি যমীন ভর্তি সোনার বিনিময়ে হলেও তারা আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পেতো! কিন্তু এটা কখনই হতে পারবে না। আর যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন নিজেদের মনস্তাপকে গোপন রাখবে। তবে তাদের সাথে যে ব্যবহার করা হবে তা ইনসাফের সাথেই করা হবে। তাদের প্রতি মোটেই কোন অবিচার করা হবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।