সূরা ইউনুস (আয়াত: 15)
হরকত ছাড়া:
وإذا تتلى عليهم آياتنا بينات قال الذين لا يرجون لقاءنا ائت بقرآن غير هذا أو بدله قل ما يكون لي أن أبدله من تلقاء نفسي إن أتبع إلا ما يوحى إلي إني أخاف إن عصيت ربي عذاب يوم عظيم ﴿١٥﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیَاتُنَا بَیِّنٰتٍ ۙ قَالَ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا ائْتِ بِقُرْاٰنٍ غَیْرِ هٰذَاۤ اَوْ بَدِّلْهُ ؕ قُلْ مَا یَکُوْنُ لِیْۤ اَنْ اُبَدِّلَهٗ مِنْ تِلْقَآیِٔ نَفْسِیْ ۚ اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ ۚ اِنِّیْۤ اَخَافُ اِنْ عَصَیْتُ رَبِّیْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ ﴿۱۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-তুতলা-‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন কা-লাল্লাযীনা লাইয়ারজূনা লিকাআনা’তি বিকুরআ-নিন গাইরি হা-যা-আও বাদ্দিলহু কুল মাইয়াকূনুলীআন উবাদ্দিলাহূমিন তিলকাই নাফছী ইন আত্তাবি‘উ ইল্লা-মাইউহাইলাইইয়া ইন্নী আখা-ফুইন ‘আসাইতুরাববী ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।
আল বায়ান: আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন, যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, তারা বলে, ‘এটি ছাড়া অন্য কুরআন নিয়ে এসো। অথবা একে বদলাও’। বল, ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তনের অধিকার নেই। আমিতো শুধু আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর অনুসরণ করি। নিশ্চয় আমি যদি রবের অবাধ্য হই তবে ভয় করি কঠিন দিনের আযাবের’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৫. আর যখন আমাদের আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না(১) তারা বলে, অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, বা এটাকে বদলাও। বলুন, নিজ থেকে এটা বদলানো আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি(২)। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহা দিনের শাস্তির আশংকা করি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতগুলো তাদের কাছে পঠিত হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না তারা বলে, ‘এটা বাদে অন্য আরেকটা কুরআন আন কিংবা ওটাকে বদলাও’। বল, ‘‘আমার নিজের ইচ্ছেমত ওটা বদলানো আমার কাজ নয়, আমার কাছে যা ওয়াহী করা হয় আমি কেবল সেটারই অনুসরণ করে থাকি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে এক অতি বড় বিভীষিকার দিনে আমি শাস্তির ভয় করি’’।
আহসানুল বায়ান: (১৫) আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে পাঠ করা হয়,[1] তখন যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না, তারা বলে, ‘এটা ছাড়া অন্য কোন কুরআন আনয়ন কর অথবা এতে পরিবর্তন কর।’[2] তুমি বলে দাও, ‘আমার জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আমি নিজের পক্ষ হতে এতে পরিবর্তন করি।[3] আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়, আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি। যদি আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তাহলে আমি এক অতি ভীষণ দিনের শাস্তির আশংকা করি।’ [4]
মুজিবুর রহমান: আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় - যা অতি স্পষ্ট, তখন ঐ সব লোক, যাদের আমার নিকট উপস্থিত হওয়ার চিন্তা নেই - এইরূপ বলেঃ এটা ছাড়া অন্য কোন কুরআন আনয়ন করুন অথবা এতেই কিছু পরিবর্তন করে দিন। বলঃ আমার দ্বারা ইহা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, আমিতো শুধুমাত্র উহারই অনুসরণ করব যা অহীযোগে আমার কাছে পৌঁছেছে। আমি যদি আমার রবের নাফরমানী করি তাহলে আমি এক অতি ভীষণ দিনের শাস্তির আশংকা রাখি।
ফযলুর রহমান: যখন তাদেরকে আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে শোনানো হয় তখন যারা আমার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশী নয় তারা বলে, “তুমি এটা ছাড়া অন্য কোন কোরআন নিয়ে এসো কিংবা এটাকে পরিবর্তন কর।” তুমি বল, “আমি তো নিজের পক্ষ থেকে এটা পরিবর্তন করতে পারি না। আমার কাছে যে ওহী আসে আমি শুধু তাই মেনে চলি। আমি যদি আমার প্রভুর কথার অন্যথা করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার এক মহাদিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।”
মুহিউদ্দিন খান: আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।
জহুরুল হক: আর যখন তাদের কাছে পাঠ করা হয় আমাদের সুস্পষ্ট বণীসমূহ, যারা আমাদের সাথে মুলাকাতের আশা করে না তারা বলে -- "এ ছাড়া অন্য এক কুরআন আনো অথবা এটি বদলাও।" বলো, "একে আমার নিজের ইচ্ছায় বদলানো আমার কাজ নয়। আমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয় শুধু তারই আমি অনুসরণ করি। আমি আলবৎ ভয় করি, -- যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, -- এক ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির।"
Sahih International: And when Our verses are recited to them as clear evidences, those who do not expect the meeting with Us say, "Bring us a Qur'an other than this or change it." Say, [O Muhammad], "It is not for me to change it on my own accord. I only follow what is revealed to me. Indeed I fear, if I should disobey my Lord, the punishment of a tremendous Day."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৫. আর যখন আমাদের আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না(১) তারা বলে, অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, বা এটাকে বদলাও। বলুন, নিজ থেকে এটা বদলানো আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি(২)। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহা দিনের শাস্তির আশংকা করি।
তাফসীর:
(১) এ আয়াতে আখেরাত অস্বীকারকারীদের একটি ভ্রান্ত ধারণা এবং অন্যায় আবদারের খণ্ডন করা হয়েছে। এসব লোক আল্লাহ তা'আলার ওহী ও রেসালাত সম্পর্কিত কোন পরিচয় জানত না। যে কুরআনুল কারীম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌছেছে, তার সম্পর্কে এদের ধারণা ছিল এই যে, এটি স্বয়ং তারই কালাম, তারই রচনা। এ ধারণার প্রেক্ষিতেই তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে দাবী জানায় যে, কুরআন এটি তো আমাদের বিশ্বাসের বিরোধী; যে মূর্তি-বিগ্রহকে আমাদের পিতা-পিতামহ সততঃ সম্মান করে এসেছে, কুরআন সে সমুদয়কে বাতিল ও পরিতাজ্য সাব্যস্ত করে। তদুপরি কুরআন আমাদের বলে যে, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হতে হবে এবং সেখানে হিসাব-নিকাশ হবে। এসব বিষয় আমাদের বুঝে আসে না। আমরা এসব মানতে রাযী নই। সুতরাং হয় আপনি এ কুরআনের পরিবর্তে অন্য কুরআন তৈরী করে দিন যাতে এসব বিষয় থাকবে না, আর না হয় অন্ততঃ এতেই সংশোধন করে সে বিষয়গুলো বাদ দিয়ে দিন। [দেখুন, বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
তারা আরও চাচ্ছিল যে, হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল করে দিন। [তাবারী; কুরতুবী] আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করার লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে হেদায়াত দান করেছেন যে, আপনি তাদের বলে দিনঃ এটি আমার কালামও নয় এবং নিজের ইচ্ছামত আমি এতে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধনও করতে পারি না। আমি তো শুধুমাত্র আল্লাহর ওহীর তাবেদার। আমি আমার ইচ্ছামত এতে যদি সামান্যতম পরিবর্তনও করি, তাহলে অতি কঠিন গোনাহগার হয়ে পড়ব এবং নাফরমানদের জন্য যে আযাব নির্ধারিত রয়েছে, আমি তার ভয় করি। কাজেই আমার পক্ষে এমনটি অসম্ভব। [ফাতহুল কাদীর]
(২) এটি হচ্ছে ওপরের দুটি কথার জবাব। এখানে একথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, আমি এ কিতাবের রচয়িতা নই বরং অহীর মাধ্যমে এটি আমার কাছে এসেছে এবং এর মধ্যে কোন রকম রদবদলের অধিকারও আমার নেই। আর তাছাড়া এ ব্যাপারে কোন প্রকার সমঝোতার সামান্যতম সম্ভাবনাও নেই। যদি গ্রহণ করতে হয় তাহলে এ সমগ্র দীনকে হুবহু গ্রহণ করতে হবে, নয়তো পুরোপুরি রদ করে দিতে হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৫) আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে পাঠ করা হয়,[1] তখন যারা আমার সাক্ষাতের ভয় করে না, তারা বলে, ‘এটা ছাড়া অন্য কোন কুরআন আনয়ন কর অথবা এতে পরিবর্তন কর।’[2] তুমি বলে দাও, ‘আমার জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আমি নিজের পক্ষ হতে এতে পরিবর্তন করি।[3] আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়, আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি। যদি আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তাহলে আমি এক অতি ভীষণ দিনের শাস্তির আশংকা করি।’ [4]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, এমন আয়াত যার দ্বারা আল্লাহর উপাস্যতত্ত্ব ও একতত্ত্ববাদকে বুঝা যায়।
[2] অর্থ এই যে, এই কুরআন মাজীদের পরিবর্তে অন্য কুরআন আনয়ন কর অথবা এই কুরআনে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবর্তন সাধন কর।
[3] অর্থাৎ, দুটো প্রস্তাবই মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়, যেহেতু এতে আমার কোন এখতিয়ার নেই।
[4] এটা পূর্ব কথার তাকীদ। আমি তো শুধু সেই কথার অনুসারী, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাতে কিছু রদবদল বা কমবেশি করলে কিয়ামতের দিনের শাস্তি থেকে আমি রক্ষা পাব না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৫-১৮ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা আখেরাতের প্রতি অবিশ্বাসকারীদের একটি ভ্রান্ত ধারণা ও অন্যায় আবদারের জবাব দিয়েছেন। এসব লোকেরা না জানত আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে, না ওয়াহী ও রিসালাত সম্পর্কে। তারা নাবী-রাসূলগণের আনীত কিতাবকে সাধারণ কিতাবের মত মনে করত। রাসূলগণ যখনই কোন আয়াত তেলাওয়াত করতেন তখন তা তাদের মনোঃপুত না হলে সে বিষয় তারা মানত না। তারা রাসূলগণকে বলত, এ কুরআন যেহেতু তুমি নিয়ে এসেছ সেহেতু তুমি এটি পরিবর্তন করে অন্য কুরআন নিয়ে আস অথবা এই কুরআনে যা হালাল রয়েছে তা হারাম কর আর যা হারাম রয়েছে তা হালাল কর। অন্যথায় আমরা তা মানব না। অথচ তারা এ কথাও জানত যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কোন কিছু লিখতে, পড়তে জানতেন না। আর তাঁর দ্বারা এটা পরিবর্তনও সম্ভব নয়।
কারণ প্রথমত, তিনি হচ্ছেন একজন উম্মী নাবী, দ্বিতীয় এতে যদি কোন কিছু পরিবর্তন করা হয় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকেও আখিরাতে কঠিন শাস্তি দেবেন। সুতরাং এ সমস্ত কথা জেনে শুনেও তারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি, রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করত, তারা আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষাতকে অস্বীকার করত, পুনরুত্থান দিবসকে অস্বীকার করত। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন বাতিল মা‘বূদদের উপাসনা করত। তারা রাসূলের তাওহীদের দাওয়াতকে মানত না। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত লাভের পূর্বে তাদের মধ্যে প্রায় দীর্ঘ ৪০ বছর অতিবাহিত করেছেন। তারা তার সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা সম্পর্কেও অবগত ছিল। যেমন
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(أَمْ لَمْ يَعْرِفُوْا رَسُوْلَهُمْ فَهُمْ لَه۫ مُنْكِرُوْنَ)
“অথবা তারা কি তাদের রাসূলকে চিনে না যার ফলে তাকে অস্বীকার করে?” (সূরা মূ‘মিনুন ২৩:৬৯)
হিরাকল আবূ সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করেছিল: তোমাদের কাছে তিনি মিথ্যা বলেছেন, এরূপ কোন প্রমাণ আছে? আবূ সুফিয়ান উত্তরে বললেন, না। আবূ সুফিয়ান তখন কাফিরদের নেতা ও সরদার, তারপরেও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যবাদিতার কথা স্বীকার করতেই হল। হিরাকল মন্তব্য করে বলেছিল: মানুুষের ব্যাপারে যিনি কখনো মিথ্যা বলেননি, আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে তিনি কিভাবে মিথ্যা বলতে পারেন? (সহীহ বুখারী হা: ৭)
তারা এ সমস্ত কথা জানা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই কুরআন পরিবর্তন করতে বলত, অথচ তা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَإِذَا بَدَّلْنَآ اٰيَةً مَّكَانَ اٰيَةٍ لا وَّاللّٰهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ)
“আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তা তিনিই ভাল জানেন।” (সূরা নাহল ১৬:১০১)
সুতরাং যারা সত্য জানার পরেও আল্লাহ তা‘আলার ওপর মিথ্যারোপ করবে অথবা আল্লাহ তা‘আলার কোন আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তাদের চেয়ে অধিক জালিম আর কেউ হতে পারে না।
আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী মুশরিকরা এমন জিনিসের উপাসনা করে যা তাদের কোন উপকার করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না। তারা এমন উপাস্য যে, যারা তাদের নিজেদেরই কোন কিছু রদবদল করতে পারে না, অথচ তাদের ধারণা যে, আমরা যদি তাদের ইবাদত করি তাহলে তারা আমাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে শাফা‘আত করবে। অথচ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত কেউ তাঁর সামনে সেদিন কথাই বলতে পারবে না। এ সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং তারা যে বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যান্য বাতিল মা‘বূদের ইবাদত করে সে বিশ্বাস ও কর্ম কোন উপকারে আসবে না। বরং তারা ও তাদের মা‘বূদেরা সবাই জাহান্নামে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষনীয় বিষয়:
১. নাবী, রাসূল ও রিসালাত সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করতে হবে।
২. আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করা যাবে না।
৩. যে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে সে সবচেয়ে বড় অত্যাচারী।
৪. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কারো ইবাদত করা যাবে না।
৫. আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত কেউ শাফা‘য়াত করতে পারবে না।
৬. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কেউ ক্ষতি ও উপকার করার মালিক নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৫-১৬ নং আয়াতের তাফসীর:
মুশরিক কুরায়েশদের মধ্যে যারা উদ্ধত কাফির ছিল এবং যারা সব কথাই অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করতো, আল্লাহ তা'আলা তাদেরই সংবাদ দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তাদেরকে আল্লাহর কিতাব শুনিয়ে দেন এবং তাদের সামনে সুস্পষ্ট দলীল পেশ করেন তখন তারা বলে- এই কুরআন ছাড়া অন্য কোন কুরআন নিয়ে এসো, যা অন্য ধারায় লিখিত। এখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে ইরশাদ করছেন- তুমি তাদেরকে বলে দাও, আচ্ছা বলতো আমার কি অধিকার আছে যে, আমি নিজের পক্ষ থেকে কুরআনকে পরিবর্তন করতে পারি? আমি তো শুধু আল্লাহর একজন আদিষ্ট বান্দা এবং তার বার্তাবাহক। এসব যা কিছু আমি তোমাদের সামনে পেশ করছি, সব কিছুই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা অনুযায়ী হচ্ছে। আমার উপর যা কিছু অহী করা হচ্ছে, আমি শুধু ওগুলোই বলছি। আমি যদি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাই তবে আমি কিয়ামতের কঠিন শাস্তির ভয় করি। এগুলো যে আমার নিজের রচিত নয়, তার স্পষ্ট প্রমাণ এই যে, আমি যদি এটা (এই কুরআন) রচনা করতে পারতাম তবে তোমরাও পারতে। কিন্তু তোমরা তো রচনা করতে সক্ষম নও। তাহলে আমি কিরূপে সক্ষম হতে পারি? সুতরাং এটা সুস্পষ্ট কথা যে, এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কালাম হতে পারে না। তাছাড়া তোমরা আমার সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার কথা তখন থেকে অবগত আছ যখন থেকে আমি তোমাদেরই কওমের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি। আর যখন থেকে আমি তোমাদের কাছে রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছি তখন থেকেও তোমরা আমার সত্যবাদিতা ও ঈমানদারীর উপর কোন কটাক্ষ করতে পার না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও আমি এক দীর্ঘজীবন তোমাদের সাথে অতিবাহিত করেছি। তোমাদের কি এতটুকুও জ্ঞান নেই যে, তোমরা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পার? এজন্যেই যখন রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ান (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে নতুন নবী (সঃ)-এর অবস্থা জিজ্ঞেস করতে গিয়ে প্রশ্ন করেনঃ “তোমাদের কাছে তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলেছেন এরূপ কোন প্রমাণ আছে কি?` আবু সুফিয়ান উত্তরে বলেনঃ “না।” আবু সুফিয়ান (রাঃ) তো ঐ সময় কাফিরদের সরদার ও মুশরিকদের নেতা ছিলেন । তথাপি তাঁকে এই নবী (সঃ)-এর সত্যবাদিতার কথা স্বীকার করতেই হয়। সে সময় হিরাক্লিয়াস মন্তব্য করেছিলেনঃ “মানুষের ব্যাপারে যিনি কখনও মিথ্যা কথা বলেননি, আল্লাহর ব্যাপারে কিরূপে তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন।
জা'ফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ) হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর সামনে বলেছিলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাদের নিকট এমন একজন রাসূল (সঃ) পাঠিয়েছেন যার স্বভাবগত সত্যবাদিতা, বংশগত মর্যাদা এবং আমানতদারী। সম্পর্কে আমরা পূর্ণ ওয়াকিফহাল। নবুওয়াতের পূর্বে সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি আমাদের সাথে অবস্থান করেছেন।” সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রাঃ) তেতাল্লিশ বছর পর্যন্ত বলেছেন। তবে প্রথম উক্তিটিই সঠিকতর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।