আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 109)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 109)



হরকত ছাড়া:

واتبع ما يوحى إليك واصبر حتى يحكم الله وهو خير الحاكمين ﴿١٠٩﴾




হরকত সহ:

وَ اتَّبِعْ مَا یُوْحٰۤی اِلَیْکَ وَ اصْبِرْ حَتّٰی یَحْکُمَ اللّٰهُ ۚۖ وَ هُوَ خَیْرُ الْحٰکِمِیْنَ ﴿۱۰۹﴾




উচ্চারণ: ওয়াত্তাবি‘ মা ইঊহাইলাইকা ওয়াসবির হাত্তা-ইয়াহকুমাল্লা-হু ওয়া হুওয়া খাইরুল হা-কিমীন।




আল বায়ান: আর তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হচ্ছে, তুমি তার অনুসরণ কর এবং সবর কর, যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন। আর তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৯. আর আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল হয়েছে আপনি তার অনুসরণ করুন এবং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যে পর্যন্ত না আল্লাহ ফয়সালা করেন, আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাপ্রদানকারী।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার নিকট যে ওয়াহী অবতীর্ণ করা হয়েছে তুমি তার অনুসরণ কর আর তুমি ধৈর্য্য অবলম্বন কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ ফায়সালা প্রদান করেন। বস্তুতঃ তিনিই হলেন সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।




আহসানুল বায়ান: (১০৯) তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়েছে, তুমি তার অনুসরণ কর এবং আল্লাহর ফায়সালা না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ কর।[1] আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফায়সালাদাতা।[2]



মুজিবুর রহমান: আর তুমি তোমার প্রতি প্রেরিত অহীর অনুসরণ কর, আর ধৈর্য ধারণ কর এই পর্যন্ত যে, আল্লাহ মীমাংসা করে দেন, এবং তিনিই উত্তম মীমাংসাকারী।



ফযলুর রহমান: তোমার প্রতি যে নির্দেশ পাঠানো হয় তুমি তা মেনে চল এবং আল্লাহর বিচার না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধর। তিনি হলেন শ্রেষ্ঠ বিচারক।



মুহিউদ্দিন খান: আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।



জহুরুল হক: আর তোমার কাছে যা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে তারই অনুসরণ করো, তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না আল্লাহ্ বিধান দেন, আর তিনিই সর্বোত্তম বিধানকর্তা।



Sahih International: And follow what is revealed to you, [O Muhammad], and be patient until Allah will judge. And He is the best of judges.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৯. আর আপনার প্রতি যে ওহী নাযিল হয়েছে আপনি তার অনুসরণ করুন এবং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যে পর্যন্ত না আল্লাহ ফয়সালা করেন, আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাপ্রদানকারী।(১)


তাফসীর:

(১) আল্লামা শানকীতী বলেন, এখানে নবী ও তার শত্রুদের মাঝে কি ফয়সালা করেছেন সেটা বর্ণনা করেন নি। অন্য আয়াতে অবশ্য তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি কাফেরদের উপর নবী ও তার অনুসারীদেরকে বিজয় দিয়েছেন। তার দ্বীনকে অপরাপর সমস্ত দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, “যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আর আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী। [সূরা আন-নাসর] আরও বলেন, “নিশ্চয় আমরা আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয় যেন আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ক্রটিসমূহ মার্জনা করেন এবং আপনার প্রতি তার অনুগ্রহ পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন এবং আল্লাহ আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য দান করেন। [সূরা আল-ফাতহঃ ১–৪] আরও বলেন, “তারা কি দেখে না যে, আমরা এ যমীনকে চতুর্দিক থেকে সংকুচিত করে আনছি? আর আল্লাহই আদেশ করেন, তার আদেশ রদ করার কেউ নেই এবং তিনি হিসেব গ্রহণে তৎপর।” [সূরা আর-রাদ: ৪১] অনুরূপ “তারা কি দেখছে না যে, আমরা যমীনকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ৪৪] [আদওয়াউল বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৯) তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়েছে, তুমি তার অনুসরণ কর এবং আল্লাহর ফায়সালা না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ কর।[1] আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ফায়সালাদাতা।[2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যা প্রত্যাদেশ করেন, তা শক্তভাবে ধর, যা আদেশ করেন, তা পালন কর, যে জিনিস থেকে নিষেধ করেন, সে জিনিস থেকে বিরত থাক এবং কোন বিষয়ে শৈথিল্য করো না। আর অহী অনুযায়ী চলতে যে কষ্ট হবে, বিরোধীদের পক্ষ থেকে যে কষ্ট আসবে এবং দাওয়াত ও তবলীগের পথে যে সমস্যার সম্মুখীন হবে, সব কিছুর উপর ধৈর্য ধারণ কর এবং শক্তভাবে সব কিছুর মোকাবিলা কর।

[2] কারণ, তাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ, তাঁর ক্ষমতা ও শক্তি অপরিসীম এবং তাঁর করুণাও সর্বব্যাপী। ফলে তাঁর থেকে উত্তম বিচারক ও ফায়সালাদাতা আর কে হতে পারে?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৮-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তোমাদের নিকট সত্য এসে গেছে। এখানে সত্য বলতে কুরআন ও ইসলামকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং যে এই কুরআন অনুপাতে ইসলামের অনুসরণ করবে সে ইহকালে ও আখিরাতে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে। আর যারা ইসলামের অনুসরণ করবে না বরং ভ্রষ্টতাকে বেছে নেবে সে নিজেই নিজের ক্ষতি করবে, তাতে অন্যের কোন ক্ষতি হবে না। বরং সে আখিরাতে এ জন্য শাস্তি ভোগ করবে। এতে আল্লাহ তা‘আলার কোন ক্ষতি নেই। অতএব তোমরা যদি নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে চাও এবং জান্নাতে যেতে চাও তাহলে সত্যকে আঁকড়ে ধর আর যদি সত্যকে বর্জন করে ভ্রষ্টতাকেই গ্রহণ করে নাও তাহলে আমি তোমাদের ওপর কর্তৃত্বশীল নই যে, বাধ্য করে সত্য গ্রহণ করাব। কারণ আমাকে তোমাদের ওপর এই দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়নি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَآ أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيْلٍ)



“আর তুমি তাদের অভিভাবকও নও।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১০৭)



আমার দায়িত্ব শুধু আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দেয়া তা ছাড়া আর কিছুই নয়। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওয়াহীর অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন: তোমার প্রতি যা ওয়াহী করা হয়েছে তার অনুসরণ কর এবং তার ওপর ধৈর্য ধারণ কর। মূলত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে উম্মাতকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াহীর অনুসরণ ও তার ওপর ধৈর্য ধারণ করতে হবে আল্লাহ তা‘আলার ফায়সালা আসার পূর্ব পর্যন্ত। এ ফায়সালা হল শত্র“দের ওপর জয় এবং সকল দীনের ওপর ইসলামকে বিজয়ী করা।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِذَا جَا۬ءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُ لا وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُوْنَ فِيْ دِيْنِ اللّٰهِ أَفْوَاجًا)‏‏



“যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসবে। তখন মানুষদেরকে তুমি দেখবে, তারা দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে।” (সূরা নাসর ১১০:১-২)



সুতরাং সর্বদা ওয়াহীর অনুসরণ করতে হবে। অন্য কোন মত, পথ ও তরীকার অনুসরণ করা যাবে না। আর এ ওয়াহীর পথে চলতে গিয়ে যত বাধা-বিপত্তি আসবে তাতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইসলাম, কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য, সকলকে এ সত্যের অনুসরণ করতে হবে।

২. মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য সৌভাগ্যবান অথবা দুর্ভাগা হয়।

৩. ওয়াহীর আনুগত্য করা ফরয।

৪. ধৈর্যের মাধ্যমে সফলতা আসে, আর আল্লাহ তা‘আলা ধৈর্যধারণকারীদের সহযোগিতা করেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৮-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- হে নবী (সঃ)! তুমি লোকদেরকে বলে দাও যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে যেসব অহী এসেছে তা সত্য। তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। যে ব্যক্তি হিদায়াত প্রাপ্ত হয়েছে এবং তার অনুসরণ করেছে, তার উপকার সে নিজেই লাভ করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি হিদায়াত লাভ করেনি, তার কুফল তাকেই ভোগ করতে হবে। আমি আল্লাহর ফৌজদার নই যে, তোমাদেরকে জোরপূর্বক মুমিন বানিয়ে দিব। আমি তো শুধু তোমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে ভয় প্রদর্শনকারী। হিদায়াত দান করার কাজ একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ পাক বলেন- হে নবী (সঃ)! তুমি নিজেই অহীর অনুসরণ কর এবং তাকে শক্ত করে ধরে থাক। যারা তোমার বিরোধিতা করছে ওর উপর ধৈর্যধারণ কর, যে পর্যন্ত না আল্লাহর ফায়সালা চলে আসে। তিনি উত্তম ফায়সালাকারী। অর্থাৎ স্বীয় ইনসাফ ও হিকমতের মাধ্যমে তিনি উত্তম মীমাংসাকারী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।